বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর ওপর একের পর এক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। তবে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর তোপ দাগলেও নিজে ফিফা প্রধান পদে লড়াই করতে আগ্রহী নন বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার (UEFA) সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- হয় ইনফান্তিনোকে নিজ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, না হয় আগামী নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।
সম্প্রতি ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের একটি বিতর্কিত উদ্যোগ নেন ইনফান্তিনো। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হলেও ইনফান্তিনোর ওপর ফুটবল বিশ্বের ট্রাস্ট বা আস্থা চরমভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
উয়েফা প্রধান আলেকসান্দার সেফেরিন এক পডকাস্টে কথা বলার সময় জানান, কেন তিনি ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে ফিফা সভাপতি পদে দাঁড়াতে চান না। ৫৮ বছর বয়সী এই স্লোভেনিয়ান বলেন, প্রথমত, আমি উয়েফাকে ভালোবাসি এবং এখানে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দ্বিতীয়ত, আমি যদি এই পদের দৌড়ে না থাকি, তবে আমার কথার বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি থাকে।
সেফেরিনের মতে, ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পর ইনফান্তিনো যখন ফিফা প্রধান হন, তখন ইউরোপের পূর্ণ সমর্থন তাঁর পেছনে ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইনফান্তিনোকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। এক, তিনি উপলব্ধি করবেন যে ফুটবল সমাজ, সমর্থক, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের সমর্থন তিনি হারিয়েছেন এবং সরে দাঁড়াবেন। অথবা দুই, তিনি মার্চে মরক্কোতে হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে নির্বাচনে যাবেন, কিন্তু সেখানে নিশ্চিতভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো শক্ত প্রার্থী লড়াইয়ে নামবেন।
ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাকে সমর্থন জানিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনফেডারেশন (CONCACAF)। ধারণ করা হচ্ছে, কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি কিংবা এএফসি প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।
অন্যদিকে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে গিয়ে নিজের সমর্থন বজায় রাখার চেষ্টা করছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। আফ্রিকার ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল বোর্ডগুলোর ওপর ভর করে এবং ছোট ছোট ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে পাশে টেনে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।