দুই যুগ আগে ২০০০ সালে শুরু ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। প্রথম আসরের পর পথ হারায় টুর্নামেন্টটি। আর্থিক টানাপোড়েনে টানা চার বছর পথহারা ছিল টুর্নামেন্টটি। ২০০৫ সাল থেকে আবার শুরু হয়ে প্রতি বছরই সাফল্যের সঙ্গে টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়েছে। ব্যতিক্রম এ বছর। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টের ২১তম আসর বসছে। ১৫ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই শেষ হবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ২১তম আসর।
২০২৫ সালের আসরে ছয় কনফেডারেশন থেকে ৩২টি দল অংশ নেবে। এরই মধ্যে ৩০ দল চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি দুই স্থানের একটি আসবে কনমেবল অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে। ২০২৪ সালের কোপা লিবারতাদোরেস কাপের চ্যাম্পিয়ন দল যোগ দেবে টুর্নামেন্অটে। ন্য দলটি কনকাকাফ অঞ্চল থেকে। এ অঞ্চলের চারটি কোটা। এরই মধ্যে চারটি কোটাই পূর্ণ হয়েছে। তবে স্বাগতিক হিসেবে বাড়তি একটা কোট তাদের জন্য রয়েছে।
অংশগ্রহণকারী দলের হিসেবে আগামী আসরই হবে সবচেয়ে বড়। আগের আসরগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। প্রত্যেক কনফেডারেশনের চ্যাম্পিয়নরাই শুধু অংশ নিতে পারতো। সে বিচারে কনফেডারেশনের চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি স্বাগতিক দেশের একটি ক্লাব খেলার সুযোগ পেত। ফলে সব মিলিয়ে দলের সংখ্যা হতো সাত। শুধুমাত্র প্রথম আসরে আটটি দল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এবার সব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অংশ নেওয়া দলের সংখ্যা হবে ৩২।
এশিয়া থেকে চারটি, আফ্রিকা থেকে চারটি, কনকাকাফ অঞ্চল থেকে চারটি, কনমেবল অঞ্চল থেকে ছয়টি, ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে একটি, উয়েফা থেকে ১২টি এবং স্বাগতিক দেশ থেকে একটি ক্লাব সুযোগ পাবে।
স্বাগতিক দল হিসেবে কারা সুযোগ পাবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় স্বাগতিক দলটিও যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্লাব হবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই জায়গাটি নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়ে চলেছে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি। মূলত মেজর সকার লিগে সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ের পর মায়ামির দাবি জোরালো হয়ে চলেছে।
ইন্টার মায়ামির কোচ টাটা মার্টিনোর বিশ্বাস তার দল ক্লাব বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে। কলম্বাস ক্রুকে হারিয়ে এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড নিশ্চিত করার পর মার্টিনো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজকের এই ফল মোটেও ছোটো কোনো বিষয় নয়। কেননা ক্লাব বিশ্বকাপে আমাদের কেন খেলা উচিত তার যথার্থতা প্রমাণ করেছি। এই বিজয় আমাদেরকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।’
টাটা মার্টিনো আরও বলেন, আমাদের দল ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। আমাদের ক্লাব টুর্নামেন্টের টিকেট পাওয়ার জন্য অন্যতম দাবিদার। আমি বিশ্বাস করি যোগ্যতার ভিত্তিতেই ক্লাব বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া উচিত। এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড জয় করার মাঝ দিয়ে আমরা সেই যোগ্যতা প্রমাণ করেছি।