ভালোবাসা দিবসের পর আজ লাথি দিবস

প্রতিটি দিনের নামই একটু ব্যতিক্রমী কখনো স্ল্যাপ ডে, কখনো কিক ডে, আবার কখনো ব্রেকআপ ডে
ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহ শেষ হলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে দেখা যায় এক অদ্ভুত ট্রেন্ড ‘থাপ্পড় ডে’, ‘কিক ডে’ বা ‘লাথি দিবস’। নামটা শুনতে মজার কিংবা একটু আগ্রাসী মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে মূলত একটি প্রতীকী ধারণা, যা ভালোবাসার উচ্ছ্বাসময় সপ্তাহের পর একধরনের ব্যঙ্গাত্মক উদযাপন হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। ভালোবাসা দিবসের রোমান্টিক আবহ কাটতেই এই দিনটিকে অনেকে মজা করে পালন করেন, আবার অনেকেই এটিকে সম্পর্কের নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলার প্রতীক হিসেবেও দেখেন।

কিক ডে আসলে কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস নয়, বরং এটি তথাকথিত ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইক’-এর অংশ হিসেবে ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ট্রেন্ড। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র ঠিক পরের দিন থেকেই শুরু হয় এই অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহ, যেখানে প্রতিটি দিনের নামই একটু ব্যতিক্রমী কখনো স্ল্যাপ ডে, কখনো কিক ডে, আবার কখনো ব্রেকআপ ডে। এই নামগুলো মূলত প্রতীকী, বাস্তবে কাউকে আঘাত করার জন্য নয়; বরং এগুলো তৈরি হয়েছে হাস্যরস, মিম সংস্কৃতি ও অনলাইন ট্রেন্ডের প্রভাবে।

কিক ডে পালনের ধারণাটি প্রথম জনপ্রিয় হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে, যেখানে তরুণ-তরুণীরা ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর অতিরিক্ত রোমান্টিকতা বা সম্পর্কের চাপ নিয়ে মজা করতে শুরু করেন। যারা সিঙ্গেল, সদ্য ব্রেকআপ হয়েছে, বা প্রেম নিয়ে হতাশ তাদের কাছে এই দিনটি যেন একধরনের মানসিক মুক্তির প্রতীক। ‘লাথি মারা’ এখানে আসলে প্রতীকীভাবে বোঝায় খারাপ স্মৃতি, কষ্টের সম্পর্ক, প্রতারণা বা বিষণ্ণতা থেকে বেরিয়ে আসা।

এই দিনের উদ্দেশ্য তাই বাস্তব সহিংসতা নয়, বরং মানসিকভাবে নেতিবাচক বিষয়গুলোকে দূরে ঠেলে দেওয়া। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার পোস্ট বা মিম শেয়ার করে লেখেন ‘টক্সিক এক্সকে কিক আউট করলাম’ বা ‘খারাপ অভ্যাসকে লাথি দিলাম’। অর্থাৎ এটি আত্মউন্নয়ন ও নতুনভাবে শুরু করার এক ধরনের রূপক ভাষা। কিছু মানুষের কাছে এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার দিন হিসেবেও দেখা হয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানুষ যদি হাস্যরসের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে দেখার চেষ্টা করে, তাহলে মানসিক চাপ কমে। সেই দিক থেকে কিক ডে-এর মতো ট্রেন্ডগুলো যদিও আনুষ্ঠানিক নয়, তবুও এগুলো মানুষের আবেগ সামলাতে একধরনের হালকা মানসিক থেরাপির কাজ করতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়, তারা এসব ট্রেন্ডকে বিনোদনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে।

তবে সমালোচকরাও আছেন। কেউ কেউ মনে করেন, এমন নামের দিবসগুলো কখনও কখনও ভুল বার্তা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ এগুলোকে আক্ষরিক অর্থে নেয়। তাই সচেতন মহল সবসময়ই জোর দেয় এই দিনগুলো কেবল মজা ও প্রতীকী অর্থে দেখার জন্য, বাস্তব জীবনে কাউকে আঘাত করা বা অপমান করার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

কিক ডে হলো আধুনিক ডিজিটাল সংস্কৃতির তৈরি এক মজার সামাজিক ট্রেন্ড, যা ভালোবাসা দিবসের আবেগঘন আবহের ঠিক পরেই হালকা হাস্যরসের মাধ্যমে অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয়। এটি প্রেমের বিপরীত নয়, বরং সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, খারাপ স্মৃতি ভুলে নতুনভাবে শুরু করার প্রতীক হিসেবেই বেশি পরিচিত। তাই বলা যায়, লাথি দিবস আসলে কাউকে আঘাত করার দিন নয় বরং জীবনের নেতিবাচকতাকে প্রতীকীভাবে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এক অভিনব উপলক্ষ।