বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে একসময়ের বিশ্বসেরা আইসবার্গ

১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার 'ফিলচনার আইস শেলফ' থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আইসবার্গ A23a বর্তমানে তার অস্তিত্বের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেটার লন্ডনের দ্বিগুণেরও বড় এই বরফখণ্ডটি দীর্ঘ ৩০ বছর ওয়েডেল সাগরের তলদেশে আটকে থাকার পর ২০২০ সালে পুনরায় সচল হয়।

যাত্রাপথ ও ক্ষয়

সমুদ্রস্রোতের তাড়নায় এটি 'আইসবার্গ অ্যালে' হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে এটি 'টেইলর কলাম' নামক বিশাল জলজ ঘূর্ণাবর্তে আটকা পড়ে টানা আট মাস একই স্থানে ঘুরপাক খায়। ২০২৫ সালের শুরুতে এটি বিশাল আকৃতির থাকলেও, দক্ষিণ আটলান্টিকের উষ্ণ পানির সংস্পর্শে এসে দ্রুত গলতে শুরু করে। ৫ মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, এর আয়তন সংকুচিত হয়ে মাত্র ১৮০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

Aerial image of the iceberg taken from the International Space Station. Through thin clouds the image shows it surrounding by smaller bergs and broken bits of ice

ধ্বংসের প্রক্রিয়া (হাইড্রোফ্র্যাকচার)

বিজ্ঞানীরা এর ধ্বংসের পেছনে 'হাইড্রোফ্র্যাকচার' প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন। গ্রীষ্মের তাপে বরফের উপরিভাগে গলা পানি গভীর ফাটল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আইসবার্গটিকে ভেতর থেকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।

Image shows smaller flatt-topped icebergs in the foreground that have broken off from the larger icesheet behind

বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব

A23a-কে বিজ্ঞানীরা একটি 'চলমান প্রাকৃতিক গবেষণাগার' হিসেবে দেখছেন। এটি যেভাবে উষ্ণ পরিবেশে বিলীন হচ্ছে, তা থেকে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকার অন্যান্য বরফস্তর (Ice Shelves) কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে কী প্রভাব ফেলবে, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক বরফখণ্ডটি সম্পূর্ণ গলে নিচিহ্ন হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।