১৯৯৯ সালে লন্ডনের একটি আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত একটি অগোছালো বিছানা হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। ছড়ানো কনডম, খালি বিয়ার ক্যান, এলোমেলো চাদর, রক্তের দাগ লাগা পোশাক- সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের এক অস্বস্তিকর দৃশ্য যেন তুলে ধরা হয়েছিল সেখানে। কিন্তু সেই বিছানাটিই পরবর্তীতে সমকালীন শিল্পের এক প্রতীক হয়ে ওঠে এবং শিল্পী ট্রেসি এমিনকে বিশ্বখ্যাত করে তোলে।
১৯৯৮ সালে তৈরি করা এই শিল্পকর্মটির নাম ছিল মাই বেড। ১৯৯৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ টার্নার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পর এটি লন্ডনের টেট ব্রিটেন গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়। বিছানাটির চারপাশে ছড়িয়ে ছিল নানা ব্যক্তিগত জিনিস- গর্ভনিরোধক, স্লিপার, খালি ভদকার বোতল, সিগারেটের ছাইভর্তি অ্যাশট্রে, পোলারয়েড ছবি এবং ব্যক্তিগত পোশাক।
শিল্পী এমিন জানান, এটি ছিল তার জীবনের এক গভীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের প্রতিফলন। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কয়েক দিন ধরে তিনি বিছানায় পড়ে ছিলেন, আর সেই সময়ের অগোছালো বাস্তবতাই তিনি শিল্পে রূপ দেন।
তবে প্রদর্শনীর পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কেউ একে সাহসী শিল্প বলে প্রশংসা করেন, আবার অনেকেই এটিকে অশোভন ও কেলেঙ্কারিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন। কিছু সংবাদপত্র এটিকে শিল্পের নামে ব্যক্তিগত জীবনের নোংরা দিক প্রকাশের অভিযোগ তোলে। তবু এই বিতর্কই শিল্পকর্মটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
পরবর্তী সময়ে মাই বেড ধীরে ধীরে সমকালীন শিল্পের অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়। ২০১৪ সালে এটি নিলামে প্রায় আড়াই মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয় এবং বর্তমানে এটি ব্রিটিশ শিল্প ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি যুক্তরাজ্যের অনেক স্কুলেও আধুনিক শিল্পের আলোচনায় এই কাজটি পড়ানো হয়।
বছরের পর বছর ধরে এই অগোছালো বিছানা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নতুনভাবে দর্শকদের সামনে এসেছে। বর্তমানে লন্ডনের টেট মডার্নে ট্রেসি এমিনের দীর্ঘ শিল্পজীবনের প্রদর্শনীতে এটি আবারও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: বিবিসি