যুদ্ধের উত্তেজনায় হুমকির মুখে বিশ্বের বৃহত্তম হোয়েল শার্কের মেলা!

কাতারের উত্তর উপকূলে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। শান্ত নীল জলের নিচে শত শত বিশালদেহী "হোয়েল শার্ক" জড়ো হয়। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বের এই বৃহত্তম হোয়েল শার্ক মিলনস্থলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাতারের আল শাহিন অঞ্চলে কয়েক'শ হোয়েল শার্ক জড়ো হয়। মূলত টুনা মাছের ডিম খাওয়ার জন্য তারা এখানে আসে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৬০০টি হোয়েল শার্ক দেখা গিয়েছিল, যা বিশ্বের আর কোথাও এত বিপুল সংখ্যায় দেখা যায় না। এই বিশালাকার মাছগুলো বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, তাই এই এলাকাটি তাদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

হরমুজ প্রণালী ও পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে যদি এই অঞ্চলে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা সামুদ্রিক স্রোতের কারণে সরাসরি হোয়েল শার্কের এই চারণভূমিতে চলে আসবে। যেখানে মাছগুলো খাবার খোঁজে, সেখানে তারা বিষাক্ত বর্জ্যের মুখে পড়তে পারে।

সামুদ্রিক গবেষক ড. গঞ্জালো আরাউজো জানান, "যদি সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই অঞ্চলে টুনা মাছের ডিম উৎপাদন কমে যায় বা সামুদ্রিক পরিবেশ দূষিত হয়, তবে হোয়েল শার্কগুলো এই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চললে এই বিপন্ন প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বড় সংকট তৈরি হবে।"

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলে জাহাজ সংঘর্ষ ছিল তাদের প্রধান হুমকি। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় যুদ্ধের অবসান এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।