২ হাজার বছরের পুরনো সোনার মুখোশ নিয়ে মিললো নতুন তথ্য

প্রায় দুই হাজার বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে তৈরি করা হয়েছিল এক অদ্ভুত সোনার মুখোশ বা মাস্ক। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, তৎকালীন সময়ে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার মরদেহের মুখে এটি পরিয়ে দেওয়া হতো। এই মুখোশ পরানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মৃত ব্যক্তির আত্মাকে বিভ্রান্ত করা, যাতে সেই আত্মা জীবিত মানুষদের ক্ষতি বা বিরক্ত করতে না পারে।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারিতে সংরক্ষিত এই প্রাগৈতিহাসিক মাস্কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২২.৬ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৭ সেন্টিমিটার। ওজন প্রায় ৬০.৯ গ্রাম। মাস্কটিতে মুখ, চোখ ও নাকের ছিদ্র রয়েছে এবং চোখ ও দাঁতের আকৃতি বোঝাতে সুক্ষ্ম ভাঁজ ও কাট কাটা রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদ জন মিকসিক তাঁর ‘ওল্ড জাভানিজ গোল্ড’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, মাস্কের প্রান্তজুড়ে একাধিক ছোট ছিদ্র রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় এটি কোনো মৃতদেহ বা সমাধির কাঠামোর সঙ্গে বেঁধে রাখা হতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দের (জাভার প্রাক-ক্লাসিক যুগ) মধ্যে এই মাস্কটি তৈরি হয়েছিল। নিকটবর্তী সুমাত্রা বা বোর্নিও দ্বীপ থেকে সংগৃহীত খাঁটি সোনা পিটিয়ে পাতলা পাত তৈরি করে ছেনি দিয়ে এই শিল্পকর্মটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। সে যুগে জাভার বাসিন্দারা মৃতদেহ দাহ করার বদলে মাটিতে কবর দিত। ফলে এই সোনার মাস্ক ব্যবহার তখনকার সমাধি সংস্কৃতিরই একটি অংশ ছিল।

ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীনকালে কেবল ইন্দোনেশিয়ায় নয়; ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানেও মৃতদেহের মুখে সোনা ব্যবহারের প্রথা ছিল। তবে এই প্রথা এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতিতে ছড়িয়েছে নাকি স্বাধীনভাবে তৈরি হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রাচীন জাভানিজরা কেন এই সোনার ডেথ মাস্ক ব্যবহার করত—তা নিয়ে গবেষকদের তিনটি প্রধান ধারণা রয়েছে:

১. তারা পূর্বপুরুষদের আত্মাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত, তাই সোনা দিয়ে তাদের সম্মানিত করা হতো।

২. এটি কেবল সমাজের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী অভিজাত পরিবারের সদস্যদের সমাধির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো।

৩. তৎকালীন সমাজ বিশ্বাস করত মৃত ব্যক্তির আত্মা জীবিতদের ক্ষতি করতে পারে। তাই আত্মাকে বিভ্রান্ত করে তার ফিরে আসার পথ ভুলিয়ে দিতেই এই সোনার মুখোশ পরানো হতো।

২০০৭ সালে সংগ্রাহক হান্টার ও ভ্যালেরি থম্পসনের কাছ থেকে ইয়েল ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারি জাভার প্রায় ৫০০টি সোনার ঐতিহাসিক বস্তু সংগ্রহ করে, যার মধ্যে এই মুখোশটি অন্যতম প্রাচীন একটি নিদর্শন।