বিশ্বের পাঁচ প্রজাতির গন্ডার রক্ষায় প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব গন্ডার দিবস (World Rhino Day)। এ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং এর অবৈধ শিকার ও পাচার বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো গন্ডার দিবস পালিত হয়। এরপর ২০১১ সালে WWF (বিশ্ব বন্যপ্রণী তহবিল)-এর উদ্যোগে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পালন শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিশ্বে গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। সেগুলো হলো- সাদা গন্ডার, কালো গন্ডার, ভারতীয় গন্ডার, জাভান গন্ডার এবং সুমাত্রান গন্ডার।
এর মধ্যে জাভান ও সুমাত্রান গন্ডার চরমভাবে বিপন্ন। আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN)-এর তথ্যমতে, জাভান গন্ডার বেঁচে আছে মাত্র ৭৬টি, যা ইন্দোনেশিয়ার একটি সীমিত অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গন্ডারের শিং-এর জন্য চোরাশিকারই এদের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। অনেক সংস্কৃতিতে এখনো গন্ডারের শিংকে চিকিৎসার উপাদান বা মূল্যবান অলঙ্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বাংলাদেশে বন্য পরিবেশে গন্ডার দেখা না গেলেও, জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভারতীয় গন্ডার সংরক্ষিত আছে। প্রাণী সংরক্ষণে বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রচারণার অংশীদার। আজকের দিনটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ব প্রাণী সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, গন্ডার বাঁচাতে হলে দরকার বৈশ্বিক ঐক্য এবং চোরাশিকার রোধে কঠোর ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যপ্রাণী রক্ষা না করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন শুধু ছবিতেই গন্ডার দেখতে পাবে। তাই সময় এসেছে প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর।