কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে কাজ করা বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক। তার মতে, মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য বিসর্জন দিয়ে ওপেনএআই এখন একটি ‘মুনাফালোভী দানব’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে চলা মামলার শুনানিতে মাস্ক এই দাবি করেন। তিনি একে কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং আমেরিকার ‘দাতব্য ব্যবস্থার ভিত্তি’ রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইলন মাস্ক আদালতে বলেন, ‘ওপেনএআই তৈরি করা হয়েছিল এআই-এর এক কল্যাণকামী রক্ষক হিসেবে। কিন্তু এখন তারা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এভাবে লুটপাট করা হলে ভবিষ্যতে কেউ আর মানবহিতৈষী কাজে এগিয়ে আসবে না।’ এ সময় মাস্ক নিজের কাজের প্রতি নিবেদনের কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ ঘণ্টা কাজ করেন এবং তার একমাত্র লক্ষ্য মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করা।
অন্যদিকে, ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের আইনজীবী বিল সাভিট মাস্কের এই দাবিগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে, ইলন মাস্ক নিজেই শুরুতে ওপেনএআই-কে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করার পক্ষে ছিলেন। সাভিট জুরিদের বলেন, ‘আসল বিষয় হলো, ইলন মাস্ক চেয়েছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হতে। তিনি মূলত ‘রাজ্যের চাবিকাঠি’ দাবি করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেন, তখনই ২০২৩ সালে নিজের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’ (xAI) শুরু করেন এবং প্রতিশোধ নিতে এই মামলা করেন।’
সাভিট আরও জানান, ২০১৯ সালে ওপেনএআই-এর লাভজনক ইউনিট গঠন করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছিল যাতে গুগল-এর ডিপমাইন্ডের মতো জায়ান্টদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীর্ষ বিজ্ঞানীদের ধরে রাখা যায়।
বর্তমানে ওপেনএআই-এর বাজারমূল্য প্রায় ৮৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং এর সহযোগী মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার (১৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মাস্কের মূল দাবি হলো ওপেনএআই-কে পুনরায় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া।
২০১৫ সালে মাস্ক ও অল্টম্যানের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে, যাকে বিশ্লেষকরা ‘এআই শিল্পের গতিপথ নির্ধারণী মামলা’ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: আরব নিউজ।