রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে দুই দিন পেছানো হয় মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের ফলে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে মেলার নির্ধারিত সময়সীমা শেষে বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
উদ্বোধন পিছিয়ে যাওয়ায় স্টল নির্মাণকারীদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা কিছুটা কমলেও এরই মধ্যে অধিকাংশ স্টলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের পর পরই বেচাকেনা শুরু করতে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। দেরিতে মেলা শুরু হওয়ায় তিন দিন সময় বাড়ানো এবং মেলার ব্যাপক প্রচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালেও বেচাকেনা ভালো হবে। পাশাপাশি বিগত বছরের মতো নি¤œমানের পণ্য বিক্রি যেন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির আশ^াস দিয়েছে ইপিবি। মেলার আশপাশে অবৈধ দোকান বসানো ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ষষ্ঠবারের মতো স্থায়ী ভেন্যুতে বসছে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রধান প্রবেশদ্বারে তুলে ধরা হয়েছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রপ্তানিমুখী পণ্যের প্রতিচ্ছবি। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ নামে বিশেষ প্রাঙ্গণ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য দুটি শিশুপার্ক।
এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩২৪টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, হংকং, ভারত ও তুরস্কের ১১টি বিদেশি স্টল রয়েছে। ব্যাংকিং সেবার জন্য থাকবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ।
নিরাপত্তা জোরদারে মেলা প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে আড়াই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক ওয়াচ টাওয়ার এবং পুলিশের টহল টিম। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় কুড়িল বিশ^রোড, খামারবাড়ি, খেজুরবাগান, নরসিংদী ও গাজীপুর থেকে বিআরটিসির শাটল সার্ভিস চালু থাকবে।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মেহেদী ইসলাম জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। পুরো মেলায় প্রায় ৯০০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সব কিছু মিলিয়ে আগের বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ও বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।