আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব নেই। পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও চালের দাম না কমার পেছনে উৎপাদন খরচ এবং শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেশে চালের চাহিদা ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয়েছে ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। অথচ বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। শুধু চাল নয়, তেল ও চিনির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে সিপিডি জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। যদিও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশে অবস্থান করছে। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে।
সংস্থাটি জানায়, নির্বাচনি বছরে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি মন্থর থাকায় এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া গত ১০ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার এবারই সবচেয়ে কম (সাড়ে ১১ শতাংশ)।
সিপিডি আরও উল্লেখ করে, সরকার ৫টি দুর্বল ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া মেটাতে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এসব ব্যয় মেটাতে গিয়ে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে, যা বেসরকারি ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। সংকট উত্তরণে ডিজিটাল অর্থনীতি ও সম্পদের ওপর কার্যকর কর আরোপের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।