নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অনুষ্ঠানটি স্থগিতের তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির আমানতকারী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণার তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই কর্মসূচির বিপক্ষে প্রচারণা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য পরিস্থিতি এবং ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারী ও চট্টগ্রামের কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন তারা অনুষ্ঠানস্থলে ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিবেচনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এই নিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এ ব্যাংক গঠনের মূল লক্ষ্য।
যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এই ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন। অপর চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও সমালোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যাংকে নামে ও বেনামে তাঁদের শেয়ার রয়েছে এবং ঋণের সুবিধাভোগী হিসেবেও তারা জড়িত ছিলেন।