হয়রানি বন্ধ না হলে রোববার থেকে চট্রগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি

চট্রগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ না হলে রোববার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনটির এক জরুরি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঐক্য পরিষদের নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু ।

সভায় নেতারা উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করেন স্কপ নেতারা।

তারা বলেন, শুক্রবার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ১৫ জন শ্রমিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ তদন্তের আবেদন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্কপের মতে, এটি নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশেই করা হয়েছে।

স্কপ এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও গর্হিত’ আখ্যা দিয়ে জানায়, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সম্পদ তদন্তের হুমকিতে শ্রমিকরা ভীত নন। বরং এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল) ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ উপদেষ্টা, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বন্দর চেয়ারম্যানের সম্পদের হিসাব নেওয়াই অধিক জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।

নেতারা আরও বলেন, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে যে কোনো হয়রানিমূলক পদক্ষেপ প্রতিহত করতে স্কপ প্রস্তুত রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যা করছে, তা নিতান্তই আগুন নিয়ে খেলার শামিল।
সভা থেকে আগামীকালের মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা এবং শ্রমিকদের বদলি ও অন্যান্য হয়রানিমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

জানা গেছে, শ্রমিকদের টানা কর্মসূচিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া, আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার প্রেক্ষাপটে ১৫ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নেতারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এসব আবেদন করা হয়। চিঠিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের কাছেও। বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণার পর এ চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের মধ্যে তাদের প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়।

তালিকার অন্যরা হলেন মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।