ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় আরও বাড়লো সোনার দাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমোবর্ধমান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পতনের পর গত দুই দিনে মূল্যবান এই ধাতুটির দর ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১২ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর গতকাল বুধবার ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৫ হাজার ১ ডলারে লেনদেন হয়।  

একই সময়ে এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩১ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

এরআগে গত মঙ্গলবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮৪১ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে আসে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোনিম্ন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সোনার চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে, এতে মূলবান এই ধাতুর দর আরও বাড়তে পারে।

মূলত, তেহরানকে চাপে রাখতে জানুয়ারির মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবহর পাঠানোর পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপক বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ইরানে হামলা চালাতে মুখিয়ে আছে দখলদার ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করবে তারা।

মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, আগামী রোববারের মধ্যেই তারা ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত আছেন।

কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে, বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।  

অন্যদিকে গতকাল বুধবার ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পর আজ স্পট সিলভারের দাম আরও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারী সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারের পৌঁছেছিল সোনার দর, আর রেকর্ড সর্বোচ্চ ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে ছুঁয়েছিল রুপা। 

সূত্র: রয়টার্স