বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে সোনা। রয়টার্স–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–এ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার পরিবর্তে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সুদের হার কমার সম্ভাবনায় আগের মতো আস্থা রাখছেন না ব্যবসায়ীরা।
স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধিই সোনা ও রুপার দামে চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব পড়ে রুপার বাজারেও—চার সপ্তাহের সর্বোচ্চে ওঠার পর স্পট সিলভারের দাম একদিনেই ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ২৬ ডলারে নেমেছে।
এদিকে মার্কিন ডলারের মান প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ট্রেজারি ফলন বাড়ায় সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার আগ্রহ কমছে। প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়েছে—নাসডাক সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী–সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সোনার অবস্থান কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
তবে সিএমই গ্রুপ এর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজারে ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ মার্চের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। জুনেও হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক এখনও আশাবাদী। তারা মনে করছেন, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
বিশ্ববাজারের এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশীয় বাজারেও সমন্বয় করা হয়। ফলে সোনার দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এর আগেই মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স