বিশ্ববাজারে সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে, এমন পূর্বাভাসে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৪৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৮৩.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৮৭.৩০ ডলারে নেমেছে।
ফরাসি বিনিয়োগ ব্যাংক ন্যাটিক্সিসের বিশ্লেষক বার্নার্ড দাহদাহ বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, যা ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে দিতে পারে। এই নীতি পরিবর্তনই সোনার দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।’
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অব জাপানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চলতি সপ্তাহে বৈঠকে বসছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বৈঠকে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ইউবিএস এক নোটে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে ঝুঁকির কারণে ভবিষ্যতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আবারও বাড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে রুপার দাম ২.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮.৪৬ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ২ হাজার ২৪.৮৫ ডলারে অপরিবর্তিত থাকলেও প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪২.৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স