ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার উপাসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাতে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্সে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্সে (২.২৯ ডলার) গিয়ে ঠেকেছে।
ব্রিটেনে ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গ্যাসের দাম আর কখনওই ওই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম ৭১.১৩ পেন্স (১.৩৩ ডলার) থেকে প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন ধরে যাওয়ার পর ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য এখনও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও কাতার থেকে আসা গ্যাসেই চলে ব্রিটেন।
ইউরোপ এই যুদ্ধের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়াতে চায় না ইউরোপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন, এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।
কিন্তু একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটে ভুগছে ইউরোপ। ইউরোপের অন্যতম প্রধান উৎস কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে কার্বন ট্যাক্স বা কার্বন কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পোল্যান্ড এবং ইতালির মতো দেশ এই কর কমাতে চাইলেও স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো এতে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে। যে কারণে ব্রাসেলসে আসন্ন বৈঠকে জ্বালানি সংকট নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা