যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে আলোচনা এগোচ্ছে বলে দাবি করার পর এশিয়ার বুধবার (২৫ মার্চ) সকালের বাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে যদিও এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইরান।
বুধবার (২৫ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি পড়ে ৮৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়।
ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এখনই চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যাদের সঙ্গে কথা বলছে তারা চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। তিনি জানান, এই আলোচনায় যুক্ত আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তবে তেহরান একদিন আগেই এমন আলোচনা চলার খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেয়। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, এটি বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয় এমন সময়েই যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত সমুদ্রপথ হিসেবে চালু রাখা এবং এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় থাকতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে এবং ইরানি শাসনের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাজারে এক ধরনের দ্বৈত বার্তা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুদ্ধের ঝুঁকি, অন্যদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে তাই দেখা গেছে উত্থান জাপানের নিক্কেই ২২৫ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি জায়ান্ট শেলের প্রধান ওয়েল সাওয়ান সতর্ক করেছেন, আগামী মাসেই ইউরোপে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান ল্যারি ফিঙ্ক সতর্ক করে বলেছেন, তেলের দাম যদি ১৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক মন্দা ডেকে আনতে পারে। সূত্র: বিবিসি