মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের দামে যখন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন গতি পাচ্ছে চীন। জ্বালানি সংকট যত বাড়ছে, বিকল্প হিসেবে ততই সামনে আসছে ইলেকট্রিক যানবাহন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছায়, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও সম্ভাব্য মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে এই সংকট যেন সুযোগ হয়ে এসেছে চীনের জন্য।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও দেশটির গাড়ি নির্মাতারা দেশে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা ও কমে যাওয়া চাহিদার মুখে পড়েছে। ফলে নতুন বাজার খুঁজে বের করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে বাস্তবতা বদলাচ্ছে দ্রুত, পেট্রোলের দাম বাড়ছে, আর বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমীকরণই চীনা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত বিস্তারের পথ তৈরি করছে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে যেখানে জ্বালানি সংকটের চাপ সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, উচ্চ জ্বালানি মূল্য চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি করছে। কারণ এই অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে, যেখানে বর্তমান সংঘাতে সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত।
জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর মতে, বৈদ্যুতিক গাড়িই এখন আমদানি ব্যয় কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। গত বছর বৈশ্বিক তেল ব্যবহারে প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে ইভি, যা ইরানের মোট রপ্তানির বড় অংশের সমান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, তেমনি বর্তমান তেল সংকট এশিয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
চীনের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। দেশটি একদিকে যেমন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌর ও বায়ু শক্তি উৎপাদক, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির প্রায় অর্ধেকই এখন বৈদ্যুতিক, আর মোট গাড়ির প্রায় ১২ শতাংশই ইভি।সূত্র: সিএনএন