ইরানের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থপাচার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ পাঁচটি ব্যাংককে তাদের লেনদেনের নথি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ‘অজান্তেই’ এমন কিছু অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেছে, যা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পরিচালিত একটি জটিল চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, জেপি মরগান চেজ, সিটিব্যাংক এবং ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের (কেএফএইচ) তুরস্কভিত্তিক শাখা ‘কুভেইত তুর্ক’ বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা গোপন করেছে। তারা এসব ব্যাংককে ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে ডলারে লেনদেন সম্পন্ন করত।
একটি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার জড়িত ছিল, যেখানে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আরো দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোতে কিছু লেনদেন হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এসব লেনদেন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান খাতাম আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন এবং আরভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির জন্য।
নথিতে বলা হয়, এসব সরঞ্জাম ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ব্যবহৃত হয় এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে জড়িত ছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা না জেনেই এসব লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেছে।
এ ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইরানকে সহায়তা করা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছে ইরানি ব্যবসায়ী দেলারাম জাভারেই ও কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের মধ্যে বিরোধ থেকে। জাভারেই দাবি করেছেন, ইরান সরকার তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়েছে এবং তার তেল-গ্যাস কোম্পানির সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র করেছে।
তার আইনজীবীদের অভিযোগ, কেএফএইচ ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে তার কোম্পানি থেকে কোটি ডলারের সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে।
একজন নিষেধাজ্ঞা আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমার পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সম্ভবত অজান্তেই এতে জড়িয়ে পড়েছে। তারা সাধারণত নিয়ম মেনে চলার জন্য সতর্ক থাকে।’
এদিকে ‘হুইসেলব্লোয়ার্স ইউকে’ এর প্রধান জর্জিনা হ্যালফোর্ড-হল বলেন, জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বিষয়টি এতদিন সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
অভিযোগের বিষয়ে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।