হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার নতুন ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে তৈরি হয়েছে মিশ্র পরিস্থিতি। বুধবার (২২ এপ্রিল) একই দিনে গ্রিসের ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে আইআরজিসির গোলাবর্ষণের পর হুট করেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।
ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২ ডলারে উঠেছে। দিনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সময়ে ডব্লিউ টি আই ক্রুড-এর দামও বাড়তি প্রবণতা দেখিয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৩ ডলারে অবস্থান করছে।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানায়, হরমুজ প্রণালিতে-এর কাছাকাছি দুটি কন্টেইনার জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি এক ঘটনায় ইসলামিক রেভলুশ্যনারি গার্ড কোর-কে দায়ী করেছে। তবে উভয় জাহাজের ক্রুরা নিরাপদ রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে শান্তি আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রথমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও অবরোধ ইস্যু ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
বিনিয়োগ সংস্থা জেফরিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহিত কুমার বলেন, দুই পক্ষের জন্যই চুক্তিতে পৌঁছানো স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলেও তেলের দাম আগের স্তরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এশিয়ায় কিছু সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে। ইউরোপের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার সূচক সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক এমা ওয়াল বলেন, যুদ্ধবিরতির খবর একদিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও শান্তি আলোচনার অগ্রগতি না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখছে। সূত্র: সিএনএন