হরমুজ উত্তেজনায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে।

শুক্রবার (৮ মে) এশিয়ার বাজার খোলার পরপরই অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শুক্রবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে এটি দুই শতাংশের বেশি বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১.১ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের যুদ্ধজাহাজ উপসাগর ছাড়ার সময় ইরান ‘উসকানিমূলক’ হামলা চালায়। এতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, পাল্টা জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি’ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন, যাতে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যায়।

ট্রাম্প অবশ্য পরিস্থিতিকে ‘ছোটখাটো আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সমঝোতায় না এলে আবারও হামলার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে সেখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। সূত্র: বিবিসি