আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুগুলোর দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর রেশ ধরে বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শুক্রবার (১৫ মে) নিউ ইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৭.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ধাতুটির দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, রুপার বাজারে আরও ভয়াবহ ধস নেমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬.২৬ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ৩ মার্চের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন। এছাড়া প্ল্যাটিনাম ৪.১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৯ শতাংশ কমেছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার জানান, মার্কিন ডলার গত দুই মাসের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়ানোর আভাস দিচ্ছে, যা ধাতু বাজারের জন্য নেতিবাচক।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে শুক্রবার সকালে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।
শুক্রবার বিকেল থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।