নব্বইয়ের মোবাইল থেকে বিকাশ-নগদের যুগ

বিকাশ না নগদ, নাকি রকেট? ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে কে এগিয়ে

নব্বইয়ের দশকে যখন মোবাইল ফোন প্রথম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন কেউ ভাবতে পারেনি যে একদিন এই ছোট্ট যন্ত্র দিয়ে আমরা এত সহজে টাকা পাঠাতে, নিতে, বিল দিতে পারবো। ২০১১ সালে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার সময়ও অনেকে এই সেবার সম্পর্কে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো সেবাগুলো আমাদের লেনদেনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মোবাইল অ্যাপের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেনের সুবিধা থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ, কেনাকাটা এমনকি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ—সবকিছু এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষস্থান দখল করে আছে নগদ ও বিকাশের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রদানকারীরা। তবে পিছিয়ে নেই ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল অ্যাপও। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ‘রকেট’ থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংকের ‘সেলফিন’—ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

mobile

নিচে বাজার বিশ্লেষণ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে শীর্ষ ৫ ডিজিটাল লেনদেনের অ্যাপের তালিকা দেওয়া হলো:

বিকাশ (bKash): বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এটি। প্রায় সব ধরনের গ্রাহক রেটিংয়ে শীর্ষে রয়েছে অ্যাপটি। এর বিশাল নেটওয়ার্ক ও সহজ ইন্টারফেস গ্রাহকদের আস্থার প্রতীক। সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, অ্যাড-মানি, পেমেন্ট, বিল পরিশোধ—সবকিছুতেই এটি সবার আগে পছন্দের তালিকায়। ব্র্যাক ব্যাংকের জনপ্রিয় এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি ২০১১ সালের জুলাই মাসে চালু হয়।

নগদ (Nagad): ডিজিটাল লেনদেনের বাজারে বিকাশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো নগদ। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে আসা এই অ্যাপটি খুব অল্প সময়েই গ্রাহকদের আস্থা জিতে নিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ও অফারের কারণে তরুণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কাছে নগদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে চালু হয় এই সেবাটি। নগদ দিয়ে ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জের মতো সেবা পাওয়া যায়।

mobile-1

রকেট (Rocket): ডিজিটাল লেনদেনের বাজারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রকেট। এটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। দীর্ঘদিনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীল সার্ভিসের জন্য এখনো বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী এই অ্যাপটির ওপর নির্ভর করেন। ২০১১ সালের মে মাসে চালু হয়। রকেট দিয়ে টাকা পাঠানো, নেওয়া, বিল পরিশোধ, রিচার্জ ইত্যাদি কাজ করা যায়।

বাইনান্স (Binance): এটি একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম। বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ডিজিটাল অর্থের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যারা আগ্রহী, তাদের কাছে এটি শীর্ষ অ্যাপ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা-বেচা এবং লেনদেন করতে পারেন। ২০১৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন চাংপেং ঝাও।

বাইনান্স ও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায়নি। বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেন করা আইনগতভাবে বৈধ নয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার সতর্ক করে দিয়েছে যে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করা যাবে না । তারপরও অনেক তরুণ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন—এটা নিজেদের দায়িত্বে করেন। তাই এখানে বিনিয়োগ করতে গেলে জেনে রাখা দরকার যে এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনের চোখে অপরাধ।

সেলফিন (CellFin): ইসলামী ব্যাংকের অ্যাপটি ইসলামিক শরিয়াহ ভিত্তিক লেনদেনের সুযোগ দেয়। এটি আস্থা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

আপনি যদি দৈনন্দিন লেনদেন, শপিং বা বিল পরিশোধের সহজ সমাধান চান, তাহলে বিকাশ ও নগদ এখনো সেরা পছন্দ। এগুলো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং প্রায় সব দোকানেই পাওয়া যায়। আপনি যদি কোনো স্বনামধন্য ব্যাংকের প্রত্যক্ষ ডিজিটাল সার্ভিস নিতে চান, তাহলে রকেট (ডাচ্-বাংলা ব্যাংক) এখনো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।অন্যদিকে, যারা ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা নিতে চান, তাদের জন্য সেলফিন (ইসলামী ব্যাংক) ভালো একটি বিকল্প।