বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী বাংলাদেশ, মুসলিম বিশ্বে ষষ্ঠ

বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক এপ্রিল ২০২৬’ প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। 

আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার পৌঁছেছে ৫১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রফতানি খাতের চাঙ্গা ভাব এবং প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে এই অনন্য উচ্চতা অর্জিত হয়েছে।

এই অভূতপূর্ব অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যাদের জিডিপির আকার যথাক্রমে ৬২১ বিলিয়ন ডলার ও ৫১৬ বিলিয়ন ডলার। 

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় মিশর ও পাকিস্তানের মতো বৃহৎ মুসলিম দেশগুলোকে বেশ বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। আইএমএফ-এর তালিকায় মিশরের বর্তমান জিডিপি ৪৩০ বিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তানের জিডিপি ৪০৮ বিলিয়ন ডলার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।

বিশ্বের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে এখনো শীর্ষ তিনটি স্থান ধরে রেখেছে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। আইএমএফ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী এই দেশ তিনটির জিডিপির আকার যথাক্রমে ১ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার, ১ দশমিক ৫৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ১ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্য দিকে সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতির এই বিশাল তালিকায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৩৭তম, যা দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ বাজারের গতিশীলতার প্রমাণ দেয়।

আন্তর্জাতিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির তালিকায় এখনো শীর্ষ অবস্থানটি ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট জিডিপির আকার এবার ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক গণ্ডি ছাড়িয়েছে। উন্নত ও সুসংহত আর্থিক ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির আসনে অবিচল রেখেছে।

এই তালিকায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, যার বর্তমান জিডিপির পরিমাণ ১৯ দশমিক ৫৩৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের বিশাল শিল্প উৎপাদন, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত রফতানিনির্ভর উৎপাদন খাত এবং দেশের ভেতরে দ্রুত সম্প্রসারিত বিশাল ভোক্তা বাজার দেশটির এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কৌশলগত অবস্থান ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন চীনের অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি মূলত দেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রফতানি আয়, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়, মেগা অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধির একটি বাস্তব প্রতিফলন। তবে দেশীয় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হলে দেশে সরাসরি বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সাথে ব্যাপক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ও ফিনটেক নিউজ