আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২.৫১ লাখ কোটি টাকা, যা মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের ওপর বড় ধরনের ঋণনির্ভরতার পরিকল্পনা করছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সূত্র অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১.১৬ লাখ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১.৩৫ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈদেশিক ঋণের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৪ শতাংশ বেশি। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশা করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থগিত থাকা বিদেশি ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থছাড়ের গতি অনেক বাড়বে।
অবশ্য চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১.০১ লাখ কোটি টাকা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং দাতা সংস্থাগুলোর শর্ত পূরণে জটিলতার কারণে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু মে মাস পর্যন্ত মাত্র ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত পূরণ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরে দুই কিস্তির ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যায়নি এবং বিশ্বব্যাংক থেকেও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম সহায়তা এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চলমান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ জরুরি ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করেছে, যার বড় অংশ আগামী অর্থবছরে ছাড় হতে পারে।
এদিকে বাজেট ঘাটতির বাকি অংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১.২০ লাখ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হতে পারে। তবে উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আগামী অর্থবছরে কিছুটা কমছে।
অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এটি এমন এক সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগকে সীমিত করে ফেলতে পারে, যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তি ও বিদেশি দাতাদের আস্থা পুনর্গঠনের ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।