৪১ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণা

দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অর্থায়ন প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এ অর্থায়ন করা হবে। এর আওতায় শিল্প ও সেবা খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি ও পল্লি অর্থনীতি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে অর্থায়ন করা হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ আগস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে দেওয়া হবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

এ ছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও পল্লি খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতকে সহায়তা, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়ন, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পল্লি অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে অর্থায়ন করা হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাতটি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। অনুষ্ঠানে এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ আলোচ্য তহবিলের গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য।