ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এমন আশঙ্কার মধ্যে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলারের বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায়ও দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৬ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে।
গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে বেড়েছিল। ৫ শতাংশের বেশি দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পড়া। এর ফলে বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা রয়েছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্যবাজার বিশ্লেষক বিবেক ধর বলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন নীতি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ পদক্ষেপ সফল হলে ইরানের পক্ষ থেকে সহিংসতা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ইরানের নেতৃত্বের বাস্তববাদী অংশ উত্তেজনা কমাতে চাইতে পারে। তবে কট্টরপন্থীরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে থাকতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানের নেতৃত্বে কোন পক্ষ প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় চীনা ক্রেতাদের কাছে দেশটির অপরিশোধিত তেলের প্রস্তাব কমেছে এবং দাম বেড়েছে বলে বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে বাগদাদের একাধিক অনুরোধের পর ইরাকের তেলবাহী কয়েকটি ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানায়।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।
মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, তেলের সরবরাহ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সমুদ্রে থাকা তেলের মজুতের পরিমাণ দ্রুত কমেছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশে স্থলভিত্তিক মজুতও কমছে।
তাদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি মার্চ-এপ্রিলের পর্যায়ে নেমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে তাদের আগের পূর্বাভাসও ধীর করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।