বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রস্তুত ও প্রকাশে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) বিএনপি সরকার ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তার ভাষায়, ‘বিবিএসকে আমরা পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। পূর্ণ স্বাধীনতা। এবং তাদের এই কাজে আমরা পৌঁছানোর জন্য যে সিদ্ধান্তগুলো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আপনারা জানেন সেটা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবং বাস্তবায়নের কাজেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার জনবল সংকটের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে পরিসংখ্যান দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আমির খসরু।

তথ্যের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো সরকার তথ্য নিয়ে যদি কোনো রকমের ম্যানিপুলেশনে যায়, এটা হচ্ছে নিজের সাথে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু না।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কর্মসূচি সফল করতে হলে সঠিক তথ্য হাতে থাকা আবশ্যক। ‘ডেটা হচ্ছে একটি সরকারের ব্যালেন্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’

সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একটা কথা কিন্তু বলেছি যে, ডেমোক্রেটাইজেশন অব দ্য ইকোনমি। অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করা।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে গণতন্ত্রায়নের একটা পর্যায়ে আমরা যেতে পারি। কিন্তু অর্থনীতি যদি গণতন্ত্রায়ন না হয়, রাজনীতি গণতন্ত্রায়ন কোনোদিনই কাজ করে না।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকাণ্ডে কীভাবে ‘গণতন্ত্রায়ন’ আনা যায়, সেটি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিগত সময়ের তথ্য-উপাত্তের ‘ফরেনসিক অডিট’ হচ্ছে জানিয়ে এর উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা যে ফোরেনসিক অডিটটা করেছি, করছি, এটার ভিত্তিটার একটাই কারণ, কোনো বিগত সরকারের দোষত্রুটি ধরার জন্য না।

এটা করতে হচ্ছে, কারণ আমি যদি রোগের গভীরে যেতে না পারি, তাহলে সেটার সমাধান দেওয়া অসম্ভব। এই কারণেই কিন্তু ফরেনসিক অডিটটা করা হচ্ছে। রোগের গভীরে যেতে হবে এবং সেটা যদি আমি জানি, সেখান থেকেই আমার স্টার্ট হবে, জার্নি স্টার্ট হবে। এবং সেই কাজটা আমি সঠিকভাবে পালন করতে পারব।

তথ্য উন্মুক্ত করার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ইট ইজ নাথিং সিক্রেট।”

তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি এটা ওপেন করব, তত বেশি ফিডব্যাক পাব। যত বেশি ওপেন করব, তত বেশি রিয়্যাকশন পাব। যত বেশি ওপেন করব, তত বেশি আমরা কোথায় ভুল করছি, এটা আমাদের কাছে ফিরে আসবে। আমার কোর্স কারেকশন করতে হলে এটা আমাদেরকে করতে হবে।’

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষ করে আসা অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ছাড়া কোনো সরকার বা নাগরিকের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকার 'ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড' ব্যবস্থার দিকে যেতে চাইছে এবং এজন্য তথ্য থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।