স্বস্তিতে নেই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ মানুষ। রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রায় সব সবজিরই দাম বেড়েছে। মুরগি–ডিম–মাছ–মাংসের বাজারেও বেশ অস্বস্তি। নানা অজুহাত দিচ্ছেন বিক্রেতারা। আর ক্ষুব্ধ ক্রেতারা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। এ খবরে রাজধানীর খুচরা বাজারে বেড়ে গেছে সবজির দাম। তবে মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, ধনেপাতা রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। প্রতি কেজি ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
সোমবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামবাজার, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজার, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, বাড্ডা, খিলক্ষেত এবং আব্দুল্লাহপুরসহ অন্য বাজার ঘুরে এসব দেখা গেছে।
সরেজমিনে খিলক্ষেত বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। অপরদিকে কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকাকে ডিঙিয়ে ধনেপাতা রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। প্রতি কেজি ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা গত দুই দিন আগে শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি হিসেবে।
বাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, আপনারা শুধু কাঁচা মরিচের দাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছেন। এদিকে ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি। শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি। দাম বেশি হওয়ায় মানুষ ২৫ গ্রাম, ৫০ গ্রাম ১০০ গ্রাম করে ধনেপাতা কিনছেন। ধনেপাতার চেহারাও ভালো না। আমদানি কম, তাই দাম বেশি।
আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল প্রামাণিক বলেন, দেশে বৃষ্টির কারণে কৃষকের সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ফসলের জমি ডুবে গেছে। এতে অনেক কৃষিক খেত থেকে ফসল তুলতে পারেনি। ফসলী জমিতে পানি জমে মরিচ গাছ এবং টমেটো, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, করলা, ঢ্যাঁড়স, লাউ গাছ মরে যাচ্ছে। এতেই দাম বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শুধু ধনেপাতা নয় বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজি ৮০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে বরবটি কেনা যেতো ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে। আজ বাজারভেদে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকায়। বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা হয়েছে। টমেটো, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, করলা, ঢ্যাঁড়স, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।