থাইল্যান্ডে সংঘাতের মধ্যেই আনুতিনের বড় জয়

সীমান্ত সংঘাত এবং চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট। 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে। খবর বিবিসির।

থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে মোট আসন সংখ্যা ৪৯২টি। দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটের কমপক্ষে ২৪৬টি আসনের প্রয়োজন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আনুতিন চার্নভিরাকুলের রাজনৈতিক দল ‘ভূমিজাই থাই পার্টি’ সর্বোচ্চ ১৯৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছে ১১৬টি আসন। অন্যদিকে, রক্ষণশীল পিউ থাই পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো অবশিষ্ট ১৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে।

যেহেতু কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য এখন জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আনুতিন চার্নভিরাকুলই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

৫৮ বছর বয়সী আনুতিন গত ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে সাংবিধানিক আদালতের আদেশে ক্ষমতা হারান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। পায়েতংতার্ন ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে এবং দেশটির বৃহত্তম দল পিউ থাই পার্টির নেত্রী। মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় আনুতিন ক্ষমতায় আসেন।

থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি গত কয়েক বছর ধরেই অস্থির। গত দুই বছরে দেশটিতে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন। এছাড়া আনুতিনের অন্তর্বর্তী শাসনামলে গত ডিসেম্বরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের ঘটনা ঘটে, যাতে উভয় দেশের বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হন।

এমন বহুমুখী সংকটের মধ্যেও নির্বাচনে ভূমিজাই থাই পার্টির এই জয় আনুতিন চার্নভিরাকুলের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।