পবিত্র রমজান মাসসহ সারা বছরই পুষ্টিগুণ ও অনন্য স্বাদের জন্য খেজুরের চাহিদা বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর ৯৫ লাখ টনেরও বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। এই চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার হাতেগোনা কয়েকটি দেশ। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের তথ্যমতে, বর্তমানে খেজুর উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. মিসর (১০ লাখ ৮৪ হাজার ৫২৯ টন)
বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর খেজুর উৎপাদনকারী দেশ হলো মিসর। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশই আসে নীল নদের এই দেশ থেকে। ১৯৯৩ সালের তুলনায় দেশটির উৎপাদন বর্তমানে দ্বিগুণ বেড়েছে।
২. ইরান (৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টন)
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইরানের খেজুর বিশ্ববাজারে গুণগত মানের জন্য সুপরিচিত। ভারত, রাশিয়া ও মালয়েশিয়া তাদের খেজুরের প্রধান ক্রেতা।
৩. সৌদি আরব (৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৩ টন)
মরুভূমির এই দেশে আজওয়া, সুক্কারি ও আম্বারের মতো বিশ্বখ্যাত খেজুর উৎপাদিত হয়। মদিনা, আল-কাসিম ও আল-আহসা অঞ্চল এই চাষের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।
৪. ইরাক (৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪০ টন)
একসময় শীর্ষে থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইরাক বর্তমানে চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। তবে সম্প্রতি দেশটি এই খাতে পুনরায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
৫. পাকিস্তান (সাড়ে ৫ লাখ টন)
দক্ষিণ এশিয়ায় খেজুর উৎপাদনে শীর্ষে পাকিস্তান। সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে উৎপাদিত এই খেজুর ভারত ও চীনেও রপ্তানি হয়।
৬. সংযুক্ত আরব আমিরাত (৫ লাখ ৩৩ হাজার টন)
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুবাই, আবুধাবি ও আল-আইন অঞ্চলে বিশাল পরিসরে খেজুর চাষ হচ্ছে।
৭. আলজেরিয়া (৪ লাখ ৮৫ হাজার টন)
উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি ‘দেগলেত নুর’ নামক বিশেষ স্বাদের খেজুরের জন্য বিখ্যাত, যাকে বলা হয় ‘কুইন অব ডেটস’।
৮ ও ৯. সুদান ও দক্ষিণ সুদান
আফ্রিকার এই দুই দেশ যথাক্রমে ৪ লাখ ৩৫ হাজার এবং ৪ লাখ ৩২ হাজার টন খেজুর উৎপাদন করে তালিকার অষ্টম ও নবম স্থানে রয়েছে।
১০. ওমান (২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টন)
আরব উপদ্বীপের এই ছোট দেশটিতে খেজুর চাষের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের এবং তাদের অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।