যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। কাতারের যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, সেখানেও এই হামলার আঁচ লেগেছে। ইরানের এই হামলায় হামলায় কাতারে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি হামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত কয়েক ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত এলাকায় ‘সীমিত পরিসরে’ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতার সরকার আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
কাতার ঐতিহাসিকভাবে ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসলেও, বর্তমান সংঘাত দেশটিকে একটি কঠিন অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। কাতারের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় দেশটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে।
কাতারের এই ক্ষয়ক্ষতি নির্দেশ করে যে, ইরান-মার্কিন সংঘাত আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে কাতারের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা