ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে নিজেদের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত ঝাই জুন-কে পাঠিয়েছে চীন। বর্তমানে ঝাই জুন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছেন।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার পৌঁছানোর পর ইতোমধ্যে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফাইসাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব জসিম আল বুদাইউই-এর সঙ্গে বৈঠক করছেন ঝাই জুন।
বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতি এবং উত্তেজনার প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা কোনোভাবেই লঙ্ঘন হওয়া উচিত নয় এবং নিরপরাধ সাধারণ লোকজন এবং বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো কঠোরভাবে নিন্দনীয়।
“চীন যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অপারেশন বন্ধের পক্ষে’, বৈঠকে বলেন ঝাই জুন।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। সৌদির মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন দূতাবাস এবং তেলের স্থাপনায় গত ১০ দিন ধরে মুহুর্মুহু হামলা হচ্ছে।
এ যুদ্ধের শুরু থেকেই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে চীন। এবার এ লক্ষ্যে প্রকাশ্য তৎপরতাও শুরু করল বেইজিং। সূত্র : বিবিসি