লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর টায়ার (Tyre) এবং এর আশপাশে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এতে টায়ার শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ উত্তর দিকে পালাতে শুরু করে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে শুরু হওয়া এই ‘হামলার ঢেউ’ বা ‘ওয়েভ অফ স্ট্রাইকস’ ওই অঞ্চলে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
হামলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই টায়ার শহর এবং এর নিকটবর্তী রাশিদিয়েহ ও বুর্জ আল-শেমালির মতো জনাকীর্ণ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ উত্তর দিকে পালাতে শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘গণ-উচ্ছেদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলার জবাবে তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু মূলত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনবহুল এই শহরটিতে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে শিশু ও নারীসহ আট শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। টায়ার শহরে এর আগেও একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছিল, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাচীন স্থাপত্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ এই উচ্ছেদ আদেশ এবং হামলার তীব্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা