ইউক্রেনের আরো ২ গ্রাম দখলে নিয়েছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি প্রদেশের সোপিচ এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক প্রদেশের কালেনিকি গ্রাম দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়।

চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের কোন পক্ষ এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের পরস্পরবিরোধী দাবির একদিন পরই রাশিয়ার এই ঘোষণা এল।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রুশ মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী দোনেৎস্কের কালেনিকি জনপদটি মুক্ত করেছে এবং সুমি অঞ্চলের সোপিচ জনপদটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

রুশ বাহিনীর অগ্রগতির এক মূল্যায়নে শীর্ষ জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ সোমবার (১৬ মার্চ) বলেন, তার সেনারা সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে বাফার জোন (নিরপেক্ষ অঞ্চল) তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে।

সোপিচ গ্রামটি সুমি অঞ্চলে রুশ সীমান্তের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যেখানে রুশ বাহিনী কয়েক মাস ধরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘সুসপিলনে’ গত সপ্তাহে দেশটির সাবেক বৈদেশিক গোয়েন্দা প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, রুশ সেনারা কালেনিকি গ্রামে প্রবেশ করেছে এবং সেখান থেকে ১৯ বাসিন্দাকে জোরপূর্বক রুশ ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে।

কালেনিকি গ্রামটি ইউক্রেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেষ্টিত শহর স্লোভিয়ানস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত। গেরাসিমভ তার মূল্যায়নে বলেছেন, রুশ সেনারা এখন ‘সক্রিয়ভাবে স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার বলেছেন, কিয়েভের সেনারা রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং হামলার তীব্রতা এখন ‘রাশিয়া যা পরিকল্পনা করেছিল বা তাদের কমান্ড রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী হচ্ছে না’।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ইউক্রেনের ৩৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার বেশিরভাগই ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত ক্রাসনোদর অঞ্চলের আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।