এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এর অচলাবস্থা নিরসনের একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পেশ করা হয়েছিল। প্রস্তাবটি ছিলো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযান সংক্রান্ত খাত বাদে বিভাগের অন্য সব অংশে অর্থায়ন করা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সিনেট মেজোরিটি লিডার জন থুন এই আইডিয়াটি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ডেমোক্র্যাটরা যতক্ষণ ফেডারেল নির্বাচন সংস্কার সংক্রান্ত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (SAVE America Act) পাসে সমর্থন না দেবে, ততক্ষণ কোনো চুক্তি হবে না। উল্লেখ্য, এই বিলটি সিনেটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘পাগল, দেশ ধ্বংসকারী, কট্টর বামপন্থী ডেমোক্র্যাটরা যতক্ষণ রিপাবলিকানদের সাথে মিলে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসে ভোট না দিচ্ছে, ততক্ষণ তাদের সাথে কোনো চুক্তি করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, আইসিই (ICE) ফান্ডিংয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট করা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা লাইনে দীর্ঘ ভিড় ও টিএসএ (TSA) কর্মীদের সংকটের কারণে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। টেক্সাস সেনেটর টেড ক্রুজসহ অনেক রিপাবলিকান নেতাও দ্রুত সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে, আইসিই বাদে অন্য সব খাতে তারা অর্থায়নে রাজি। কিন্তু ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।
জন থুন সোমবার ট্রাম্পের এই শর্তকে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটার আইডি বিল পাসের সাথে সরকারি অচলাবস্থা কাটানোর শর্ত জুড়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়, কারণ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া এটি পাস করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, সিনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ এনেছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওকলাহোমা সেনেটর মার্কওয়েন মুলিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অপেক্ষা করবে।