ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চার বছর পূর্ণ হলেও সহিংসতা কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘ভয়াবহ’ হয়ে উঠেছে। সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান রোজমেরি ডিকার্লো।
ডিকার্লোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার হতাহতের হার অন্তত ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ১৮৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি প্রায় ১৫০০ দিনের মৃত্যু, ধ্বংস এবং হাহাকারের এক কালো অধ্যায়।
ইউক্রেনের অবকাঠামোর বিপর্যয়কর চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘ জানায়, গত শীত মৌসুমে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির ৬০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ, পানি এবং তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া ডিকার্লো সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাইন বা বিস্ফোরক দূষিত দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১,৩২,০৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা মাইন আতঙ্কে রয়েছে। জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তার জন্য ২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও এর তিন-চতুর্থাংশই এখনো অপূরণীয় রয়ে গেছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি