হাইতির কৃষিপ্রধান অঞ্চল আর্তিবোনাইটে ভয়াবহ সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। একই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। খবর: আল-জাজিরার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রোববার ভোরে আর্তিবোনাইটের গ্রামীণ জনপদে এই হামলা শুরু হয় এবং সোমবার পর্যন্ত চলে। সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মানবাধিকার সংস্থা 'ডিফেনসার্স প্লাস' জানিয়েছে, এই সহিংসতার কারণে প্রায় ৬,০০০ মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ১৬ জন নিহতের কথা বললেও জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। হাইতি জাতীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে ৩টি সাঁজোয়া যান পাঠালেও গ্যাং সদস্যদের খোঁড়া গর্তের কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় 'গ্রান গ্রিফ' গ্যাং-এর নেতা লাকসন এলান এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্রুপের হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে হাইতিতে গ্যাং সংঘাতের কারণে প্রায় ২০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির ১২ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। আর্তিবোনাইট অঞ্চলের এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হাইতির নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়কে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।