গোরস্থানের বদলে ফ্ল্যাটে মৃতদের ছাই সংরক্ষণ, রুখতে কঠোর হচ্ছে চীন

চীনে প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাদের শেষ বিদায় জানানো এখন বিলাসিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোরস্থানে এক টুকরো জায়গার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষ এক অদ্ভুত পথ বেছে নিয়েছিলেন তারা গোরস্তানের বদলে খালি ফ্ল্যাট বাড়িতে মৃত আত্মীয়দের ছাই (অস্থি) জমিয়ে রাখতেন। তবে এই 'অস্থি রাখার ফ্ল্যাট' বা 'বোন অ্যাশ অ্যাপার্টমেন্ট' সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবার কঠোর আইন আনছে চীন সরকার।

চীনে বর্তমানে গোরস্তানের জায়গার তীব্র সংকট এবং উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ২০২৫ সালের এক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ জাপানের পরেই চীনে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, আবাসন খাতের মন্দার কারণে গত কয়েক বছরে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ফলে অনেকেই গোরস্তানে চড়া দামে জায়গা না কিনে, তুলনামূলক সস্তায় একটি ছোট ফ্ল্যাট কিনে সেখানে বংশপরম্পরায় পূর্বপুরুষদের ছাই রাখার পাত্র সাজিয়ে রাখছেন। একেকটি ফ্ল্যাট যেন হয়ে উঠেছে একেকটি পারিবারিক সমাধি।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন আইনে বলা হয়েছে, আবাসিক ভবনকে কোনোভাবেই চিতাভস্ম বা অস্থি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নিয়ম অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোরস্তান ছাড়া অন্য কোথাও মৃতদেহ সৎকার বা সমাধি নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, গোরস্তানের দাম এতটাই বেশি যে তারা নিরুপায় হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছিলেন। একজন ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লিখেছেন, "গোরস্তানের দাম ৯০ শতাংশ কমালেও তা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে।" অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কীভাবে ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটের ভেতরে তল্লাশি চালাবে?

চীনে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত বছর দেশটিতে ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষ মারা গেছেন, যা জন্মহারের চেয়ে অনেক বেশি। জায়গার অভাব মেটাতে সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে সরকার এখন 'জলসমাধি' বা সমুদ্রের পানিতে চিতাভস্ম বিসর্জনের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং আর্থিক অনুদানও দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান