মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরণের সংকটে পড়েছে এভিয়েশন শিল্প। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘কোরিয়ান এয়ার’ (Korean Air) আগামী মাস থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থাপনা মোডে’ (Emergency Management Mode) যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে জ্বালানি ব্যয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সামাল দিতে তারা অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মূলত আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কোরিয়ান এয়ার আশা করছে, এপ্রিল মাসে জেট ফুয়েলের খরচ প্রতি গ্যালনে ৪৫০ মার্কিন সেন্টে পৌঁছাবে, যা তাদের বাজেটে ধরা ২২০ সেন্টের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দামের সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রীদের পকেটে। কোরিয়ান এয়ারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এপ্রিল মাস থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর ওপর ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বা বাড়তি জ্বালানি কর আরোপ করা হবে।
ইনচিয়ন-নিউইয়র্ক ও শিকাগো রুট: ভাড়া ২০০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।
ইনচিয়ন-লন্ডন ও প্যারিস রুট: সারচার্জ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেবল কোরিয়ান এয়ার নয়, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের চাপে ইতিমধেই ‘এশিয়ানা এয়ারলাইন্স’, ‘টি-ওয়ে’ এবং ‘এয়ার বুসান’-এর মতো সংস্থাগুলোও জরুরি ব্যবস্থাপনা মোডে প্রবেশ করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় সাধারণত নতুন বিনিয়োগ স্থগিত রাখা, উন্নয়ন প্রকল্প ধীর করা এবং প্রয়োজনবোধে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি-র বিশেষজ্ঞ তান চি শিয়াং বলেন, এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো এখন ‘দুমুখো বিপদে’র মুখে। একদিকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে আঞ্চলিক বাজারে জেট ফুয়েলের তীব্র ঘাটতি। দক্ষিণ কোরিয়া যেহেতু তেলের জন্য প্রায় পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, তাই তাদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ব্যবসা এক বড় ধরণের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স