দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভারতে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম জনশুমারি বা আদমশুমারি। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দেশটির প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছেন ৩০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা। ২০২৬ সালের এই শুমারিটি ভারতের ইতিহাসে ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর ৮ম জনশুমারি।
এবারের জনশুমারিতে প্রতিটি পরিবারকে ঘরবাড়ি, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মান নিয়ে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। উল্লেখযোগ্য প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আপনার বাড়ির ছাদ কি কংক্রিটের না কি খড়ের?
- আপনাদের প্রধান খাদ্যশস্য কী?
- আপনার কি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে, না কি শুধু সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন?
- এক ছাদের নিচে কতজন বিবাহিত দম্পতি বসবাস করেন?
ভারতের ইতিহাসে এবারই প্রথম এই বিশাল প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আপলোড করবেন। এছাড়া নাগরিকরা চাইলে ১৬টি ভিন্ন ভাষায় তৈরি করা সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য নিজেই জমা দিতে পারবেন, যা পরে যাচাই করা হবে।
পুরো শুমারিটি দুটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়েছে
১. প্রথম ধাপ (এপ্রিল ২০২৬): এই ধাপে ঘরবাড়ির তালিকাভুক্তি এবং গৃহসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দিল্লি, গোয়া, কর্ণাটক, মিজোরাম এবং ওড়িশায় ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এটি চলবে।
২. দ্বিতীয় ধাপ (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): এই ধাপে মূল জনসংখ্যা গণনা করা হবে, যেখানে শিক্ষা, অভিবাসন, উর্বরতার হার এবং জাতিগত তথ্য নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর ২০২১ সালে এই শুমারি হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ, যার ৭০ শতাংশ মানুষই কর্মক্ষম। সঠিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন, নতুন নীতিমালা তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এই নির্ভুল তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। সূত্র: বিবিসি