পাকিস্তান নৌবাহিনী এবং চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (PLAN) যৌথভাবে পরিচালিত অষ্টম বার্ষিক সামুদ্রিক মহড়া ‘সি গার্ডিয়ান-৪’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উত্তর আরব সাগরে আট দিনব্যাপী এই মহড়া দুই দেশের সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল- করাচি বন্দরে পাঁচ দিনের ‘পোর্ট ফেজ’ এবং উত্তর আরব সাগরে দুই দিনের ‘সি ফেজ’।
করাচি বন্দরে অবস্থানকালে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস তাইমুর’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়। ‘পোর্ট ফেজে’ দুই দেশের নৌ-কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময়, নৌ-স্থাপনা পরিদর্শন এবং পেশাদার সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর ফলে দুই নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত জ্ঞান বিনিময়ের পথ সুগম হয়।
মহড়ার দ্বিতীয় অংশে বা ‘সি ফেজে’ গভীর সমুদ্রে যৌথ সামরিক মহড়া ও কৌশলগত অনুশীলন পরিচালনা করা হয়। এতে সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধকৌশল, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং উদ্ধার অভিযানের মতো জটিল বিষয়গুলো অনুশীলন করা হয়। মহড়ার শেষ দিনে আরব সাগরে দুই দেশের নৌবহরের যৌথ টহলের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, এই মহড়া কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই জোরদার করেনি, বরং এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি পাকিস্তান ও চীনের যৌথ অঙ্গীকারকেও পুনরায় নিশ্চিত করেছে।সূত্র: সামা টিভি।