জর্ডান কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনায় হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কারাজের বি-১ সেতুতে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সিরিজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা 'দুবাই মেরিনা' লক্ষ্য করেও হামলা শুরু করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানের আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কুয়েতের প্রধান মার্কিন রসদ ঘাঁটি 'ক্যাম্প আরিফজান' এবং সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সাঁজোয়া ব্রিগেডের যান্ত্রিক ব্যাটালিয়নকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানে মার্কিন সামরিক কর্মীদের ক্যাম্প এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক শিল্পকে সহায়তাকারী বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম গলানোর কারখানায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের এই পাল্টা হামলা ইসফাহান ও খুজেস্তানের ইস্পাত কমপ্লেক্স ধ্বংসের প্রতিশোধ।

এদিকে শনিবার সকালে দুবাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল এলাকা দুবাই মেরিনাতে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। স্থানীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও একটি ড্রোন বা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকার একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। ইরান দাবি করেছে, দুবাইয়ের মেরিনা এলাকার কয়েকটি হোটেলে মার্কিন সেনারা আত্মগোপন করে আছে এবং ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদিদের বসবাস থাকায় সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় স্থাপনাগুলোই এখন হামলার শিকার হচ্ছে।