রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি স্লোভাকিয়ার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট চরম বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার ওপর থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। 

রোববার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরু করা অপরিহার্য।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আরবানের সঙ্গে ফোনালাপের পর রবার্ট ফিকো বলেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত রাশিয়া সহ সব উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।’

উল্লেখ্য, ইইউ-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। শনিবার ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৈঠকে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি আলোচনার বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আগামী ১২ এপ্রিলের পর কিয়েভ সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরুর পর স্থবির হয়ে পড়া রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মাঝেই ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার ইউক্রেনের পূর্বঞ্চলীয় শহর নিকোপোলে একটি জনাকীর্ণ বাজারে রুশ ড্রোন হামলায় ৩ নারীসহ ৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সুমি, কিয়েভ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে রাশিয়ার ছোড়া ২৮৬টি ড্রোনের মধ্যে ২৬০টি তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের হামলায় রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কে একটি পরিবারের ৩ সদস্য (বাবা-মা ও শিশু) নিহত হওয়ার দাবি করেছে মস্কোপন্থী প্রশাসন।

ইউক্রেন যুদ্ধ ১৫০০ দিন পার করলেও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত এখন এই যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।