আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলার যাবতীয় সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) ওয়ানসান এলাকা থেকে পূর্ব উপকূল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পিয়ংইয়ং। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর আগে সকালেও কয়েকটি দফার উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছিল। 

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। এই ঘটনার পরপরই সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ এক জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (NSC) বৈঠক আহ্বান করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া একে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছে।

জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের মাত্র ১০ মিনিট পরই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাগরে আছড়ে পড়ে। জাপানের প্রধান কেবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এই ধরণের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি।

কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলে অনেকেই মনে করেছিলেন দুই দেশের সম্পর্কে হয়তো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জ্যাং কুম চোল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘শত্রু’ ছাড়া অন্য কিছু ভাবলে তা হবে সিউলের ‘অলীক কল্পনা’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের প্রতি সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার যে পরিচয়, তা কোনো আচরণেই পরিবর্তন হওয়ার নয়।’

উত্তর কোরিয়া মূলত তাদের সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানি চালিত ইঞ্জিনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরীক্ষা চালাচ্ছে। এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে দ্রুত ও গোপনে পরিচালনা করা যায়। চলতি বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ দফার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

উল্লেখ্য, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কেবল একটি অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় কারিগরিভাবে দেশ দুটি এখনো একে অপরের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে।