ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে যে বিমান হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠলেও তার শারীরিক ক্ষত এখনো অপূরণীয়।
রয়টার্সের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে হামলার সময় মোজতবা খামেনির মুখে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ ও শান্তি আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দিচ্ছেন।
গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ড জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে বর্ণনা করার সময় ‘জানবাজ’ (যুদ্ধে গুরুতর আহত ব্যক্তি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত ১৩ মার্চ দাবি করেছিলেন যে, বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি কেবল আহতই হননি, বরং তার চেহারাও ‘সম্ভবত বিকৃত’ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, আলী খামেনির মতো একক কর্তৃত্ব মোজতবার হাতে নেই। বর্তমানে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি) অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। মোজতবা খামেনিকে ক্ষমতায় বসানোর পেছনেও এই বাহিনীর বড় ভূমিকা ছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থা তাকে কতদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় সক্রিয় রাখবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও ‘মিম’ ছড়িয়ে পড়েছে। একটি জনপ্রিয় মিমে দেখা যাচ্ছে শূন্য চেয়ারের ওপর স্পটলাইট ফেলে নিচে লেখা হয়েছে, ‘মোজতবা কোথায়?’ তবে সরকারি সমর্থক ও বাসিজ মিলিশিয়াদের দাবি, ক্রমাগত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে বর্তমানে জনসম্মুখে আনা হচ্ছে না। সূত্র: রয়টার্স