ইসলামাবাদে সেনাপ্রধানের পোশাকেই কি বিশেষ বার্তা

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের আগমনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইরানি প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানানোর সময় তাকে সামরিক পোশাকে (Military Fatigues) দেখা গেলেও, শনিবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানানোর সময় তিনি ছিলেন বেসামরিক স্যুটে।

সাধারণত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী এমন উচ্চপর্যায়ের ভিআইপিদের অভ্যর্থনা জানাতে সেনাপ্রধানের সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা নয়। কিন্তু বর্তমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। তবে পোশাকের এই বৈচিত্র্য কি কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত দেয়?

পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের অধীনে কাজ করা এক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আল জাজিরাকে জানান, সেনাপ্রধান কী পরবেন সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি সেনাপ্রধানের নিজস্ব ইচ্ছা বা তিনি কী ধরনের প্রভাব (Influence) বিস্তার করতে চান তার ওপর নির্ভর করে। মোশাররফের সময়ও আমরা তাকে কখনো ইউনিফর্মে আবার কখনো স্যুটে ডেলিগেশনদের সাথে দেখা করতে দেখেছি।

অন্য এক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলের মতে, এটি হয়তো কোনো বড় ইস্যু নয়, তবে বর্তমান সময়ের গুরুত্ব বিবেচনা করলে এটি তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এই যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানিদের সামনে সামরিক পোশাকে উপস্থিত হওয়া এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সামনে স্যুটে আসা উভয় ক্ষেত্রেই আসিম মুনির হয়তো তার বহুমুখী অবস্থান বা পরিস্থিতির গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তবে যে পোশাকেই তিনি থাকুন না কেন, এই শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতিই এখন বড় খবর।