ত্রিমুখী অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়াহ' এর ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসলীলা, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ ‘ট্রিপল শক’ বা ত্রিবিধ সংকটে বিপর্যস্ত দ্বীপরাষ্ট্রটি।

গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় মাত্র তিন দিনে প্রায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। এই বন্যায় ৬৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১৭৩ জন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ড. গণেশন উইগনারাজা বলেন, ২০০৪ সালের সুনামির চেয়েও এবার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এই দুর্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

শ্রীলঙ্কা যখন বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লড়ছে, ঠিক তখনই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে শ্রীলঙ্কা সরকার পুনরায় জ্বালানি রেশনিং, বিদ্যুতের দাম ৪০% বৃদ্ধি এবং চার দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি আবারও ফিরে আসছে সাধারণ মানুষের মনে।

বিপর্যয়ের এই সময়ে শ্রীলঙ্কার পাশে সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। 'অপারেশন সাগর বন্ধু'-এর আওতায় ভারত ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান ও সহায়তা প্রদান করেছে। বিপরীতে, ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়ে কার্যত মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পুনরায় অর্থনৈতিক দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সূত্র: বিবিসি