বড় ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বিবিসি, চাকরি হারাবেন ১০ শতাংশ কর্মী

বিশ্বের অন্যতম বড় সংবাদ সংস্থা বিবিসি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। শিগগিরই প্রায় ২০০০ জন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বলে জানাচ্ছে দ্য গার্ডিয়ান। এটি গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সংস্থাটির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী এই সিদ্ধান্তে চাকরি হারাতে চলেছেন। বুধবার এক বৈঠকে কর্মীদের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এই ছাঁটাই হচ্ছে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে। আগামী মাসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন। তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। 

 

খরচ কমাতে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মী কমানো হবে এবং কিছু অনুষ্ঠান বন্ধ করা হবে। সাবেক মহাপরিচালক টিম ডেভি আগে বলেছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার মোট খরচের ১০ শতাংশ কমাতে হবে।

 

টিম গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি নভেম্বর মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা ও ট্রান্স অধিকার ইস্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

 

বিবিসি এখন সরকারের সঙ্গে তাদের রয়্যাল চার্টার নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে। আগামী বছরের শেষে এই চার্টারের মেয়াদ শেষ হবে। লাইসেন্স ফি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত ১ এপ্রিল লাইসেন্স ফি বেড়ে ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে ১৮০ পাউন্ড হয়েছে। গত বছর ২ কোটি ৩৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে বিবিসি। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আরও ২ বিলিয়ন পাউন্ড এসেছে।

 

তবে লাইসেন্স ফি দেওয়া পরিবারের সংখ্যা কমেছে। এক বছরে প্রায় ৩ লাখ পরিবার কমেছে। মানুষ এখন বেশি ঝুঁকছে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে। 

 

স্ট্রিমিং সেবার কারণে বিবিসি আরও চাপে পড়ছে। গত বছর অফকম সতর্ক করে বলেছিল, পাবলিক সার্ভিস টিভি ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হয়ে যেতে পারে।

 

এই পরিস্থিতিতে বিবিসি তাদের বিবিসি আইপ্লেয়ার সেবা বাড়াতে চাইছে। পাশাপাশি জানুয়ারিতে ইউটিউবের সঙ্গে কনটেন্ট চুক্তি করেছে।

 

বিবিসি জানিয়েছে, গত তিন বছরে তারা ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছে। এর বড় অংশ কনটেন্ট তৈরিতে খরচ করা হয়েছে।